প্রধান খবরস্বাস্থ্য সংবাদ

দেশে জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু করা দরকার।

★জ ই বুলবুল : প্রধান প্রতিবেদক
ডা. এম ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ঢাকা।
একটা সময় ছিল যখন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই অপ্রতুল ছিল । এখন দেশে প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলায় বেসরকারীভাবে ফিজিওথেরাপি সেন্টার গড়ে উঠেছে। এ দেশে সাধারন মানুষের পক্ষে বেসরকারীভাবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়না কারন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি একটু সময় সাপেক্ষ, ক্ষেত্রবিশেষে কারো ৭ দিন করো ১৪ দিন কারো বা ২১ দিন টানা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, বিশেষ করে স্ট্রোক পরবর্তী প্যরালাইসিস বা পক্ষাঘাত গ্রস্থতা হলে বা স্পাইনাল কৃড ইনজুরি হলে ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত টানা ফিজিওখেরাপি সেন্টার বা হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে এই চিকিৎসা সেবা নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষ্যে সম্ভব হয় না যার ফলে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সব সরকারী হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ চালু আছে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন সাধারণ রোগী যার পক্ষে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয় ।
আঠারো থেকে বিশ কোটি মানুষের দেশ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি এই চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা যায় তাহলে বিরাট সংখ্যক রোগী পঙ্গুত্ববরণ থেকে রেহায় পাবে এবং তারা কর্মক্ষম হয়ে নিজে যেমন পরিবারে অর্থনৈতিক ভুমিকা রাখবে তথা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। আরেকটি বিষয় নিয়ে সমাজ কল্যাণ  ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা দেখি যখন তখন যে কেউ এসে যত্রতত্র ফিজিওথরাপি সেন্টার, ক্লিনিক খুলছে। এগুলো তদারকি করার কেউ নেই। একটা পর্যায়ে গিয়ে এগুলোর চিকিৎসা সেবার সঠিক মান আর থাকছে না, ফলে তা দুর্নাম ছড়াচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ পুরো দেশের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাচ্ছে। এসবের প্রতি তদারকি বাড়ানো উচিত। দেশের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ৯৫ শতাংশ সেবা দেয় বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টার গুলিতে। কিন্তু বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টার গুলি  সম্পর্কে মানুষ নেতিবাচক কথা বলে, কারণ সেখানে স্নাতক ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নাই, এতে  করে অনেকে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পরিবর্তে অপচিকিৎসার স্বীকার হচ্ছে এবং এই চিকিৎসার সুফল থেকে বন্চিত হচ্ছে এবং এই চিকিৎসা সম্পর্কে ভুল ধারনা পাচ্ছে যে এই চিকিৎসা দীর্ঘদিন নিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আপানারা অবগত আছেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ২০১৮ এর অধীনে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের প্রফেশনাল রেজিস্ট্রেশন ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার বা ক্লিনিকের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন তাই  অবিলম্বে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া  চালু করার দাবি জানাচ্ছি। রেজিস্ট্রেশন না থাকায় অনেক মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, কিন্তু তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না। এই অপচিকিৎসা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে  আমরা এসোসিয়েশন থেকে একটি স্পেশাল টিম গঠন করে কাজ করছি। এই রেজিস্ট্রেশন চালু হলে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ যত্রতত্র ফিজিওথেরাপি সেন্টার বা ক্নিনিক পরিচালনা করতে পারবে না এবং সাধারণ মানুষ অপচিকিৎসা থেকে মুক্তি পাবে ।
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল  :
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় সেবায় এক অনণ্য ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে ।
উন্নত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডিতে ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে দেশের মানুষকে। যা আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা  প্রদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই দীর্ঘ সময়ের সাফল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি নিজের সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করেছে ইতিমধ্যে। এখন দেশের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল অন্যতম রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত।
গত ১৭ বছরে ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি  হাসপাতালের বহির্বিভাগে ২ লক্ষাধিক রোগী, আন্তঃবিভাগে ৫০ হাজারের বেশী রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। প্রতি বছরই রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০-১৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০  শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে বর্তমানে ১০ জন চিকিৎসক, ১০ জন ফিজিওথেরাপিষ্ট ১০ জন নার্সসহ মোট ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।  এ ছাড়া পার্টটাইম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন যারা নিয়মিত আন্তঃবিভাগ রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি  হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ রয়েছে। বহির্বিভাগে অর্থোপেডিক বা মাস্কুলোস্কেলিটাল ফিজিওথেরাপি বিভাগ , নিউরোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি বিভাগ, পেডিয়াট্রিক ফিজিওথেরাপি বিভাগ, জেরির্য়াটিক ফিজিওথেরাপি বিভাগ, কার্ডিও রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি বিভাগ, গাইনিকোলোজিক্যাল ফিজিওথেরাপি বিভাগ ও স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি বিভাগে বিভিন্ন রোগের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য সেবাগুলোর মধ্যে প্যথলোজী, ফার্মেসী ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টার সার্ভিস পাওয়া যায়।
হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক সংগতির কথা মাথায় রেখে ঠিক করা হয়েছে। এখানে ওযার্ড, ননএসি  ও  এসি কেবিন আছে। দরিদ্র রোগীদের জন্য  ১০ শতাংশ শয্যা বরাদ্দ আছে; এখানে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের মতো সুবিধা পাবেন। এটি একটি ফিজিওথেরাপি বেজড হাসপাতাল তাই এখানে ফিজিওথেরাপি রিলেটেড সব চিকিৎসা  এই হাসপাতালে বিদ্যমান আছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এ দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও শিক্ষা  আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মুন্সিগন্জে ১০ বিঘা জায়গায় ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা সিটি নার্সিং ইনস্টিটিউট,  ঢাকা সিটি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়াও ঢাকা সিটি ভকেশনাল ট্রেনিং ইনিসটিউটের নাধ্যমে  কেয়ার গিভারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা  নেওয়া হচ্ছে । এখানকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সরা পরবর্তীতে দেশে ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করবে বলে আমরা আশা করি। এখান থেকে পাশ করা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসগন ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে কাজ করবেন ।  শুধু ঢাকার মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যে তাদের কাজ থেমে নেই। এ ছাড়াও আগামীতে ঢাকার পাশপাশি ৮টি বিভগীয শহরে ও পর্যায়ক্রমে  বৃহৎ জেলা গুলোতে এই হাসপাতালের বহিরবিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।  যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ যেন  উন্নত মানের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *