চিকুনগুনিয়া পরবর্তী ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা
০১। চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা জ্বর ও তীব্র জোড়ার ব্যথা সৃষ্টি করে।
০২। ভাইরাসের কারণে ও ইমিউনের প্রতিক্রিয়ায় post-viral arthritis হয়, যা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী করে।
০৩। চিকিৎসার জন্য ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, হালকা ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, সঠিক খাদ্য এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ।
০৪। নিয়মিত ফলো-আপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যথা ও দুর্বলতা কমে যায়।
চিকুনগুনিয়া কী ?
•চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মশার কামড়ে (এডিস মশা) ছড়ায়।
•এটি চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) দ্বারা সংক্রমিত হয়।
•সাধারণত বর্ষাকালে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
চিকুনগুনিয়ার প্রধান উপসর্গ
•হঠাৎ উচ্চ মাত্রার জ্বর (১০২–১০৪°F)
•তীব্র জোড়ার ব্যথা (বিশেষ করে হাত, পা, কব্জি, গোড়ালি, আঙ্গুলের জোড়ায়)
•পেশির ব্যথা
•ত্বকে ফুসকুড়ি / র্যাশ
•মাথাব্যথা
•দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা
•চোখে ব্যথা বা লাল হওয়া
সাধারণত জ্বর ৩–৭ দিন থাকে, তবে জোড়ার ব্যথা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী হয়।
চিকুনগুনিয়া পরবর্তী ব্যথার কারণ
১. ভাইরাসজনিত প্রদাহ (Post-viral arthritis):
•চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জোড়ার Synovial fluid এ প্রদাহ তৈরি করে।
•জোড়ার আশেপাশের টিস্যুতে (ligament, tendon) প্রদাহ থেকে যায়।
২. ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া:
•ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত কাজ করে প্রদাহ দীর্ঘায়িত করে।
৩. জোড়ার তরলের পরিমাণ ও গুণমান পরিবর্তন:
•হাড়ের মাথার সাথে সাথে জোড়ার তরল ও কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ব্যথা থেকে যায়।
৪. নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা:
•বিশ্রাম ও ব্যথার কারণে জোড়ার নড়াচড়া কম হয়, ফলে Rigidity ও Stiffness তৈরি হয়।
এ কারণে চিকুনগুনিয়ার পর ৩–৬ মাস পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে ১–২ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
চিকুনগুনিয়া পরবর্তী ব্যথার চিকিৎসাঃ
১. বিশ্রাম ও নড়াচড়া সমন্বয়:
•অতিরিক্ত বিশ্রাম না নিয়ে হালকা নড়াচড়া ও ফিজিওথেরাপি করতে হবে।
•হাত-পায়ের জোড়াগুলোকে ধীরে ধীরে নাড়াচাড়া করতে হবে।
২. ওষুধ:
•ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর জন্য:
•প্যারাসিটামল (ব্যথা থাকলে)
•প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নন-স্টেরয়েড এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAIDs)
•দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে DMARDs দেওয়া যেতে পারে।
৩. ফিজিওথেরাপি:
•রেঞ্জ অব মোশন (ROM) এক্সারসাইজ: জোড়ার নড়াচড়া ধরে রাখতে সহায়তা করে।
•Stretching Exercise: পেশির শক্তি ধরে রাখতে।
•Strengthening Exercise: পেশি ও জোড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে।
•হাত/পা গরম পানিতে ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে নিলে ব্যথা ও Stiffness কমে।
৪. গরম বা ঠান্ডা সেঁক:
•সাধারণত গরম সেঁক ব্যথা ও Stiffness কমাতে উপকারী।
•ব্যথা তীব্র হলে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
৫. পুষ্টিকর খাবার ও হাইড্রেশন:
•পর্যাপ্ত পানি পান।
•সবজি, ফলমূল, ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার (মাছ) প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
•ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার হাড় ও জোড়ার জন্য ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ?
- ব্যথা ১ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
- জোড়ার ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে
- চলাফেরায় সমস্যা হলে
- অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ওজন কমে গেলে

ডা.এম ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা । হটলাইন: ০১৭৮৭১০৬৭০২
সম্পাদনা : মেশকাত সাকিব, স্বাস্থ্য প্রতিবেদক।